সর্বশেষ সংবাদ >>

পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর পাতানো মা বিচিত্রা সিনহার ঠিকানা হলো নড়সিংগড় স্থিত রাজ্য সমাজ কল্যাণ দপ্তর পরিচালিত বৃদ্ধাশ্রমে।

T24x7 প্রতিনিধি29/06/2020ত্রিপুরা

প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়গা নিয়ে কচুছড়া থানা স্থাপন করলেও বিনিময়ে এখনো কিছু পায়নি কচুছড়া থানা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বিচিত্রা সিনহা। বর্তমানে অন্যের জায়গায় জরাজীর্ণ ঘরে কোন মতে দিন গুজরান করছিলেন তিনি। পরের দয়ায় কোন ক্রমে বেঁচে আছেন এই অসতীপর বৃদ্ধা। কমলপুর মহকুমার কচুছড়া থানা সংলগ্ন বাসিন্দা বিচিত্রা সিনহা। স্বামী গকুল সিনহা সহ দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। বর্তমানে এরা কেউ বেঁচে নেই। এখন তিনি একা। ২০০২ সালে কচুছড়া থানা স্থাপনের সময় সালেমা অঞ্চলের বামনেতা বিমল দাস সহ আরো কয়েকজন মিলে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিচিত্রা সিনহার কাছ থেকে নয় কানী জমি থানা স্থাপনের জন্য লিখে নিয়ে যায়। কচুছড়া থানা স্থাপনের জন্য অনেকের কাছে প্রলোভন দেখিয়ে নেতারা জায়গা চেয়েছিল। কিন্তু কেউ দেয়নি। বিচিত্রা সিনহার একাকীত্ব ও সরলতার সুযোগ নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় বলে অভিযোগ। ২০০২ সালে কচুছড়া থানার উদ্বোধন হয়। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার তাঁকে মঞ্চে বসিয়ে মা বলেও সম্বোধন করেন। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তিনি সব পাবেন। দেখতে দেখতে সতের বছর কেটে আঠারো বছর পূর্ণ হতে চললেও আজও বিচিত্রা সিনহার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। বিচিত্রা সিনহার জায়গায় ফিসারী, ফলের বাগান ছিল। একই সঙ্গে ছিল সব্জি চাষ করার মতো জায়গা। এখন সব শেষ। একটি জরাজীর্ণ ঘরে কোন মতে দিন গুজরান করেন তিনি। বিচিত্রা সিনহা জানান বিমল দাসরা থানার জন্য জায়গা নিয়েছে , কিন্তু বিনিময়ে কিছুই দেয়নি। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিচিত্রা সিনহাকে নিয়ে আশা হয় আগরতলায়। তাঁর কোভিড টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসার পরেই  সোমবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় নড়সিংগড় স্থিত রাজ্য সমাজ কল্যাণ দপ্তর পরিচালিত বৃদ্ধাশ্রমে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকায় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিকের সহায়তায় বিচিত্রা সিনহাকে আগরতলায় আনা হয়। সরকারী হোমে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু তাঁর  আগে কোভিড টেস্ট করানো হয়। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর এইদিন তাকে মহাত্মাগান্ধী বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তর করা হয় বলে জানান প্রদীপ ভট্টাচার্য।বৃদ্ধাশ্রমে জাওয়ার আগে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর পাতানো মা বিচিত্রা সিনহা জানান তাঁর আক্ষেপের কথা। তিনি আরো জানান তাঁকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি পূর্বতন সরকার। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার মা বলে সম্বোধন করলেও তাঁর বেঁচে থাকার জন্য সঠিক কোন উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে সেই পুত্রের খোজে রয়েছেন বলেও আক্ষেপের সুরে জানান বিচিত্রা সিনহা। সকলের কাছে আবেদন জানান তাঁর পাতানো পুত্র কোথায় থাকেন সেই ঠিকানা দেওয়ার জন্য।