সর্বশেষ সংবাদ >>

প্রকল্প গুলি বাস্তবে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইঞ্জিনিয়াররা বড় ভূমিকা পালন করেঃ মুখ্যমন্ত্রী।

T24X7 প্রতিনিধি15/09/2020TRIPURA

ত্রিপুরা রাজ্যের ইঞ্জিনিয়াররা নিজের কর্মক্ষমতা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প গুলি কি ভাবে জনগণের স্বার্থে অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছানো যায় তার ব্যবস্থা করছে। বর্তমান রাজ্য সরকার ইঞ্জিনিয়ারদের সার্ভিস মেটার আপগ্রেড করার উপর জোর দিয়েছে। ক্যাডার ম্যানেজমেন্ট আপগ্রেড হওয়ার সাপেক্ষে সরকার আন্তরিক। অন্তর্বর্তীন কালীন সময়ে ইঞ্জিনিয়ারদের ফুল ডিউটি চার্জ ৩০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। আগরতলা স্মার্ট সিটি রুপায়নে ইঞ্জিনিয়ারদের বড় ভূমিকা রয়েছে। ৫৩ তম ইঞ্জিনিয়ার দিবস উপলক্ষ্যে স্টেট ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশান পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর পূর্ব শিবনগরস্থিত অনিক ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তিনি আরও বলেন দীর্ঘ বছর ধরে বনমালিপুরে বর্ষার মরশুমে জনজীবন ব্যতিব্রস্ত হয়ে পড়তো। বনমালিপুর বাসীর একটাই দাবি ছিল জল ডুবি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। বর্তমানে তা সম্ভব হয়েছে। আর তার পিছনেও ইঞ্জিনিয়ারদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সমগ্র ত্রিপুরা রাজ্যে মানুষকে বিনামূল্যে পানীয় জল দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ত্রিপুরার প্রত্যেকটি প্রান্তে ঘরে ঘরে বিনামূল্যে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সেই ক্ষেত্রে পানীয় জল ও স্বাস্থ্য বিধান দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা বড় ভূমিকা পালন করছে। আগে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ ছিল মাত্র ১৩ হাজার ২২১ টি পরিবারে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ত্রিপুরার প্রত্যেকটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে গ্রামীণ এলাকায় প্রায় এক লক্ষ্য পরিবারকে পানীয় জলের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে বিনা মূল্যে। ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য তা সম্ভব হয়েছে। গ্রামীণ এবং শহর এলাকা মিলে ইতিমধ্যে ১ লক্ষ্য ৭৮ হাজার ১২৩ টি পরিবারে ইতিমধ্যে পানীয় জলের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। আর এই সবকিছু ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সম্ভব হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুৎ বিভাগে বড় পরিবর্তন আসছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পর রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্য হওয়ার পর এত বড় পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগ হয়নি।  রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ক্ষেত্রেও ইঞ্জিনিয়ারদের বড় ভূমিকা রয়েছে। জাতীয় সড়কের জন্য প্রায় ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার জন্য টেন্ডার হয়ে গেছে। রাজ্যে এত বড় মাত্রার টেন্ডার আগে কখন হয়নি। চতুরমুখি যে উন্নয়ন, সেই সবগুলি উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ারদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এইটা করতে পারলেই ইঞ্জিনিয়ার দিবসের সঠিক মূল্যায়ন হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খাদি বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজীব ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। এইদিনের অনুষ্ঠানে গর্ভবতী মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাদ্য সামগ্রী। মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা এই সকল খাদ্য সামগ্রী গর্ভবতী মায়েদের হাতে তুলে দেন।