সর্বশেষ সংবাদ >>

ব্যাঙ্কে টাকা না রেখে অন্য ব্যবসায় লাগালে মাল্টি বিজনেসম্যান হওয়া সম্ভবঃমুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

T24X7 প্রতিনিধি20/11/2020TRIPURA

৬৭তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষ্যে শুক্রবার আগরতলা টাউন হলে এক আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। সমবায় দপ্তর ও ত্রিপুরা রাজ্য সমবায় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা চক্রের আয়োজন করা হয়। প্রদিপ প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে এই আলোচনা চক্রের সুচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ৬৭তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহের ভাবনা কোভিড অতিমারি - আত্মনির্ভর ভারত - সমবায়। এইদিনের আলোচনা চক্রে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন ২০১১ সালের সমীক্ষা অনুসারে ত্রিপুরা রাজ্যে ৩৬ লক্ষ মানুষ রয়েছে। তার মধ্যে আর্থিক এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার লোক সমবায়ের সাথে যুক্ত। রাজ্যে ২,৮০৮ টি সমবায় সমিতি কাজ করছে। সমবায় সমিতি গুলি বর্তমানে যে কাজ করছে তার সাথে অন্য ব্যবসা করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন যে সকল সমবায় সমিতি মাছ বিক্রয় করে তারা মাছ বিক্রয় করে ব্যাঙ্কে টাকা রেখে দিলে হবে না। মাছ বিক্রি করার পর সে টাকা ব্যাঙ্কে না রেখে কমলা বিক্রি করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে কমলা বিক্রি করলে ব্যাঙ্কে টাকা রাখার প্রবণতা কমবে। ব্যাঙ্কে টাকা জমিয়ে রেখে দিলে হবে না। ব্যাঙ্কে টাকা না রেখে অন্য ব্যবসায় লাগালে মাল্টি বিজনেসম্যান হওয়া সম্ভব বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মানুষের ২৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যাঙ্কে রয়েছে। আর তার থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক থেকে বের হচ্ছে। আরও ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যাঙ্কে রয়েছে। সেই টাকা ব্যাঙ্ক থেকে বের করতে হবে। রাজ্যের বাজেট প্রায় ২০ হাজার টাকা। রাজ্যের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা বের করার প্রবণতা ছিল ৩০ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ শতাংশ। এতে বুঝা যায় মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। মানুষ বিনিয়োগ করছে। পুরনো ধারায় চলা বন্ধ হয়েছে। কারণ পুরনো ধারা দিয়ে চলা বিপ্লব দেবের অভ্যাস নয়।পুরানো ধারায় যদি ত্রিপুরা দাঁড়াতো, তাহলে আগেই ত্রিপুরা দাঁড়াত। ২৫ বছরেরও ত্রিপুরা দাঁড়ায়নি। ইনফ্রাস্ট্রাকচার শিক্ষা সহ সবদিক থেকে উন্নয়ন করে মাত্র তিন বছরের মধ্যে মডেল ত্রিপুরা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই দিশাতে কাজ চলছে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সামবায়কে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। মানসিকতা থাকতে হবে লাভের। ক্যুইন আনারস সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে তৈরি প্রডাক্ট বেস্ট প্রডাক্ট করে তুলতে হবে। তাহলে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে। আর প্রোডাক্ট যদি ভালো না হয় তাহলে বদনাম হবে। আর এতে সেই প্রোডাক্ট প্রতিযোগিতায় সামিল হতে পারবে না। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুনিয়ার দরজা খুলে দিয়েছেন। বর্তমানে প্রোডাক্ট বাজারজাত করতে শোরুম বানাতে হয় না। শুধু প্যাকেটিং ভালো করে প্রোডাক্ট বেস্ট হলেই মানুষ ক্রয় করছে। আর এটাই ভোকাল ফর লোকাল। যুবকদের মধ্যে সাড়া পড়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী এন সি দেববর্মা, ত্রিপুরা মার্কফেডের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক  কৃষ্ণধন দাস সহ অন্যান্যরা।